বাংলাদেশের অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ অবশেষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন। আজ তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক আবেগঘন বার্তায় অবসরের ঘোষণা দেন। ৩৯ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার ২০০৭ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের পর দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে দেশের হয়ে খেলেছেন।
সর্বশেষ চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে বাংলাদেশ দলের পারফরম্যান্স নিয়ে বেশ সমালোচনা হয়েছিল, বিশেষ করে দুই সিনিয়র ক্রিকেটার মুশফিকুর রহীম ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে নিয়ে। এরপর চলতি বছরের কেন্দ্রীয় চুক্তির তালিকায় তাদের নাম থাকলেও মুশফিক নিজেকে ওয়ানডে থেকে সরিয়ে টেস্ট ফরম্যাটে মনোনিবেশ করেন। অন্যদিকে, মাহমুদউল্লাহ আগেই টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নিলেও ওয়ানডে চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
২০২১ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হারারেতে শেষ টেস্ট খেলে সাদা পোশাকের ক্রিকেটকে বিদায় জানান মাহমুদউল্লাহ। এরপর ২০২৪ সালের অক্টোবরে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে টি-টোয়েন্টিকেও গুডবাই বলেন। তবে ওয়ানডেতে খেলে যাচ্ছিলেন তিনি। সর্বশেষ ২৪ ফেব্রুয়ারি রাওয়ালপিন্ডিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটিই হয়ে থাকে তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ।
আজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি লেখেন, “সমস্ত প্রশংসা শুধুমাত্র সর্বশক্তিমান আল্লাহর। আমি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” সতীর্থ, কোচ ও ভক্তদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “আমি কৃতজ্ঞ আমার সতীর্থদের প্রতি, যারা আমার সঙ্গে পথ চলেছে। কোচদের প্রতি, যারা আমাকে সবসময় সহায়তা করেছেন। আর বিশেষ ধন্যবাদ আমার ভক্তদের, যারা ভালো ও খারাপ সময়ে আমার পাশে ছিলেন।”
পরিবারের অবদানও তিনি বিশেষভাবে স্মরণ করেন। তিনি লেখেন, “বিশেষ কৃতজ্ঞতা আমার বাবা-মা, শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের, বিশেষ করে আমার শ্বশুর ও ভাই এমদাদ উল্লাহর প্রতি, যিনি শৈশব থেকে আমার পাশে ছিলেন। আমার স্ত্রী ও সন্তানদের প্রতি ভালোবাসা, যারা সবসময় আমাকে সমর্থন করেছে। আমি জানি, রায়েদ আমাকে লাল-সবুজ জার্সিতে মিস করবে।”
অবসরের সিদ্ধান্তকে বাস্তবতার অংশ হিসেবে মেনে নিয়ে মাহমুদউল্লাহ বলেন, “সবকিছু সবসময় পারফেক্টভাবে শেষ হয় না, তবে আপনাকে সেটা মেনে নিয়ে এগিয়ে যেতে হয়। আলহামদুলিল্লাহ।”

তিন ফরম্যাট মিলিয়ে ৪৩০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তার ওয়ানডে রানসংখ্যা ৫৬৮৯। বাংলাদেশের হয়ে স্মরণীয় অনেক মুহূর্ত উপহার দেওয়া এই ক্রিকেটার দেশের ক্রিকেটের জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন।